ইলিশের দুর্ভিক্ষ মরিয়া জেলে

ইলিশের দুর্ভিক্ষ মরিয়া জেলে, একে একে জেলেদের নৌকা সমুদ্র থেকে খালে প্রবেশ

করছে। কিছু ইলিশ ব্যবসায়ী সাঁতার কাটছে এবং অন্যরা ভেড়া ঘাটে পৌঁছার

আগেই নৌকায় উঠছে। যাইহোক, যখন নৌকাগুলি তীরে এসেছিল, তখন দেখা গিয়েছিল যে

তাদের কারও কারও মধ্যে ১০কেজি এবং অন্যদের মধ্যে ৫কেজি ইলিশ রয়েছে।

মাছ না থাকায় সমুদ্রে কাজ বৃথা গেল। তাই ক্লান্ত জেলেদের মুখে ভোগান্তির ছাপ।

অন্যদিকে জেলেদের কাছ থেকে ইলিশ কিনতে আসা ব্যবসায়ীরাও হতাশ।

আরও নতুন নিউস পেতে আমাদের সাইটঃtipscenter11.xyz

ইলিশের দুর্ভিক্ষ মরিয়া জেলে

রবিবার দুপুর সোয়া ২ টা থেকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাটে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

সেই ঘাটের কুমিরগুলো উত্তর ও দক্ষিণ গ্রাম থেকে আসা জেলেদের দেড় শতাধিক

নৌকা নিয়ে ভিড় করেছিল। সমুদ্র থেকে ফিরে আসা জেলেরা জানান, মৌসুমের মাঝামাঝি

সময়েও আগের বছরগুলোতে এমন দুর্ভিক্ষ হয়নি। গত ১০ বছরে তারা এই মৌসুমে

সবচেয়ে কম ইলিশ দেখেছে।

ইলিশের দুর্ভিক্ষ মরিয়া জেলে

চলতি বছরের প্রথম মৌসুমে গতকাল পর্যন্ত সীতাকুণ্ড উপকূলে ১৫০ টন ইলিশ ধরা পড়েছে।

যাইহোক, গত বছর মৌসুমের সেই সময়ে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট মাসে ৪৮১.০৫ মেট্রিক

টন ইলিশ ধরা পড়েছিল।ইলিশ কম ধরা প্রসঙ্গে মৎস্য কর্মকর্তা শামীম আহমেদ বলেন,

সাগরে নদী থেকে মিঠা পানির স্রোত রয়েছে। এ বছর মিঠা পানির প্রবাহ অনেক কম।

পানির এই প্রবাহ ছাড়া ইলিশের ঝাঁক আসতে উৎসাহিত হয় না। এ কারণে ইলিশের

পরিমাণ এ বছর অনেক কম।

শামীম আহমেদ আরও জানান এই মৌসুমে

ইলিশের জন্য আরও তিনটি জো (মাছ ধরার উপযুক্ত সময়) রয়েছে। এই তিনটি জোটে ইলিশের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।কমপক্ষে ২০জন জেলে যারা মাছ নিয়ে এসেছিল তারা বলেছিল যে তাদের মধ্যে অনেকেই এই সময় ১০থেকে ১৫লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি ৫০,০০০ টাকার ইলিশ বিক্রি করতে পারেননি। অনেকেই ও অর্থ পরিশোধ করে সমুদ্রে জাল পাচ্ছেন। কিন্তু তারা মাছ ধরছে না বলে  কিস্তি চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।

কুমিরা ঘাটে মাছ আনা কানাই জলদাস জানান

তিনি সমুদ্রে ২০ টি ইলিশ জাল রেখেছিলেন। কিন্তু তিনি গতকাল দুপুর পর্যন্ত যে ইলিশ পেয়েছিলেন তা ১২০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে নৌকার জন্য জ্বালানি তেল টাকায় কিনতে হয়েছে। তিন শ্রমিকের বেতনে আরো ১,৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে তার ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১,১০০টাকা।তবে পাইকাররা বলছেন, ইলিশ কম ধরা হলেও চাহিদা বেশি হওয়ায় তারা মুনাফা করছে। কিন্তু তারা চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন বাজারে ইলিশ সরবরাহ করতে পারছে না।

কুমিরা ঘাটের ব্যবসায়ী নুরুল আমিন সীতাকুণ্ড

থেকে কারওয়ান বাজার, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, টাঙ্গাইল, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও রংপুরে ইলিশ পাঠান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত বছর এই সময়ে তিনি একটি ট্রাক ভাড়া নিয়ে নিজে ইলিশ পাঠাতেন। কিন্তু এবার আমাকে দিনে দুই থেকে পাঁচটি ক্যান (১০০কেজি) ইলিশ সংগ্রহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু বাজারে ইলিশের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ইলিশ পাঠাতে দেরি হচ্ছে, কিন্তু বিক্রি হতে সময় লাগছে না।

উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস

সমবায় কল্যাণ ফেডারেশনের মতে, ৫৩,০০০ পরিবার চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গা থেকে সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর পর্যন্ত সামুদ্রিক মাছ ধরার সাথে জড়িত।ফেডারেশনের সভাপতি লিটন জলদাস বলেন, বাংলাদেশে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলে ভারত ও মিয়ানমারের জেলেরা মাছ ধরত। ফলে বাংলাদেশে ইলিশ কমছে। মৌসুমের এই সময়ে ইলিশের ভিড় ছিল। আর এবার গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ইলিশ ধরা পড়েছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!